অরক্ষিত গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতিকেন্দ্র ও সংগ্রহশালা


চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর গ্রামে গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতিকেন্দ্র ও সংগ্রহশালা অরক্ষিত পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য কোন জনবল থাকায় সংগ্রহশালাটি থেকে চুরি হয়ে যাচ্ছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। এমনকি কখন কিভাবে এসব সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে তাও জানা যাচ্ছে না।

 

সম্প্রতি ওই সংগ্রহশালার ২০টি ফ্যান চুরির ঘটনা জানাজানি হলে বিষয়টি সামনে আসে। পরে পুলিশের তৎপরতায় চুরি যাওয়া ফ্যানের কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে চুরির সাথে জড়িত তিনজনকে।

 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর গ্রামে একুশে পদকপ্রাপ্ত চট্টলতত্ত্ববিদ ও গবেষক আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতিকেন্দ্র ও সংগ্রহশালাটি অবস্থিত। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় জাদুঘরের শাখা হিসেবে সংগ্রহশালাটি স্থাপন করা হয়। এই সংগ্রহশালা স্থাপনে পরিবারের পক্ষ থেকে দানপত্র মূলে ২৬ শতক জমি হস্তান্তর করেন আবদুল হক চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের নির্বাহী সদস্য ও প্রয়াতের পুত্র সমাজবিজ্ঞানী ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী। প্রয়াত আবদুল হক চৌধুরীর ২৮ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেলেও সংগ্রহশালার দ্বিতল ভবনটি সেভাবেই পড়ে আছে।

 

ড. মনজুর উল আমিন চৌধুরী জানান, সংগ্রহশালার ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হলেও সেখানে কোন লোকবল নিয়োগ করা হয়নি। দেখাশোনা করার কেউ নেই। এভাবে অযত্নে অবহেলায় সংগ্রহশালাটির সব সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এমনকি কখন ফ্যান চুরি হয়েছে সেটাও দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ জানে না। এভাবে জিনিসপত্র চুরি হতে থাকলে সংগ্রহশালাটি ঝুঁকির মুখে পড়বে। আশা করি সরকার সংগ্রহশালাটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল অবিলম্বে নিয়োগ দিবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, তিন মাস আগে ২০টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফ্যানের কিছু যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

বীর মুক্তিযোদ্ধা, চট্টলতত্ত্ববিদ ও গবেষক আবদুল হক চৌধুরী চট্টগ্রামসহ এই অঞ্চলের ইতিহাস রচনায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। গবেষণায় অবদানের জন্য ২০১১ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। চট্টগ্রামের ইতিহাস নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। #