মেয়েরা কতটুকু স্বাধীন!

শাহানা ইয়াসমিন

এখন চট্টগ্রাম ডেস্ক।

আপডেটের সময়ঃ মার্চ ১৩, ২০২৫

এই সমাজ,এই রাষ্ট্রে যতটুকু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়েছে, মানসিক ও মানবিক উন্নতি কি তাঁর ছিঁটেফোঁটাও হয়েছে? সমাজ বাস্তবতা দেখে তো মনে হয় দিন দিন আমরা মানসিকভাবে হত-দরিদ্র হচ্ছি, তলিয়ে যাচ্ছি অন্ধকারের দিকে। শিক্ষা-সংস্কৃতি, আচার-ব্যবহার সবক্ষেত্রে এ কথাটা প্রযোজ্য হলেও নারীর অগ্রযাত্রার ক্ষেত্রে এটা বেশি প্রযোজ্য। নারী যেন এইখানে ভোগ্যপণ্য। তা শিশু থেকে শুরু করে প্রায় সব বয়সের নারীর জন্যেই।

এক শ্রেণীর পুরুষ নারীকে যেন লোলুপ লালসায় প্রতিনিয়ত গিলে খায় । কত দানব পুরুষ উচ্চশিক্ষা,উচ্চ আসনে আসীন হয়েও মনের সুপ্ত কোণে অধীনস্ত নারী সহকর্মীকে ভোগের সামগ্রী ভাবতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

ভদ্রতার আড়ালে বিকৃত চেহারাটা লুকিয়ে রাখে।অবস্থাটা এমন, নারী তুমি ভোগের সামগ্রী হও! নয়ত হেনস্তা,মিথ্যা অপবাদ আর নিরন্তন নাজেহালে অতিষ্ট করে তোলে খোদ সহকর্মীদের কেউ কেউ। দুমুঠো- দুইবেলা খাবার জোগাতে গিয়ে চাকুরি করা পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে কর্পোরেট হাউজেও প্রায় একই অবস্থা। শুধু শিকারটা করা হয় ভিন্ন আঙ্গিকে। শিকারে পরিণত হওয়া এসব কর্মজীবী নারীরা কতটা অসহায় হয়ে দিন যাপন করে সেটা ভুক্তভোগী ছাড়া কারো পক্ষেই অনুধাবন করা সম্ভব না।শুধু কর্মজীবী কেন? গৃহবধূ থেকে শুরু করে শিশুরাও এসব হায়েনার কবল থেকে মুক্ত নয়।

একটা কোমলমতি কন্যা শিশুও আশি বছরের পুরুষের যৌন লালসায় বলি হতে দেখেছি মিডিয়ার কল্যানে। উঠতি বয়সের কত কত মেয়ে ঘরে, স্কুলে, কোচিংয়ে,বন্ধু বান্ধবের মহলে আব্রু হারিয়ে লোকলজ্জার ভয়ে চুপ হয়ে যায়। ক্ষত হয় দেহে,মানসিক যন্ত্রণায় ক্ষত-বিক্ষত হয়ে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে বাধ্য হয়।

অভিনয়ে পটু বাবার বয়সী হওয়ার সুযোগে আদরের ছলে নোংরা স্পর্শে শিশু-কিশোরীর শরীরে কালো কলংক এঁকে দেয়। কত ঘরে অন্ধকার রাতে গৃহকর্মী লাঞ্চিত হয়ে রক্তাক্ত অশ্রু ঝরাচ্ছে। বাসে,ট্রামে,রেলে পথে ঘাটে চলতে গিয়ে নারীকে অহেতুক ছুঁয়ে ছুঁয়ে বিকৃত রুচীর পুরুষ আয়েস করে।এর শেষ কোথায়?এখনই সময় এসব হায়েনার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার।প্রতিবাদের ঝড়ে সব লন্ডভন্ড করে দাও,নারী।মনে রেখ,যদি চুপ থাকো, তবে বারবার তোমাকে লালসার ছোবল মারবে। আর বিকৃত আনন্দ উপভোগ করবে সেসব পুরুষ।

আর নয়, আর নয়,পাশ কাটিয়ে যাবার দিন শেষ।আওয়াজ তোল,বলে দাও,জানিয়ে দাও।বিচারের মুখে দাঁড় করিয়ে দাও।এর অবসান করতে হবে,তোমাকেই এখনই, অপেক্ষার দিন শেষ। প্রতিবাদ হোক এখনই। এখনই নয়তো কখনও নয়।

লেখক –
শাহানা ইয়াসমিন
অধ্যাপক
ব্যবস্থাপনা বিভাগ,
ওমরগণি এমইএস কলেজ,
চট্টগ্রাম।

(মতামত লেখকের নিজস্ব। এজন্য এখন চট্টগ্রাম কর্তৃপক্ষ দায়বদ্ধ নয়।)