শ্রোতার আসরে রাগের আলো


চন্দ্রকোষের শুদ্ধ-নিষাদের নিনাদ-মিশ্রিত নাগমায় তবলার বোল- বাণিতে মুখরিত; ক্ষণিক ভৈরবের কোমল রেখবের সুরের পরশে প্রকৃতি শান্তরূপে প্রশমিত; আহির-ভৈরবের পঞ্চম-ব্যঞ্জনে রুক্ষতা প্রকাশিত; পরিশেষে হিন্দোলের তিব্র-মধ্যমের সুললিতের সুরজ্ঞ-স্বাদ আস্বাদন করল চট্টগ্রামের রাগ সংগীত রসজ্ঞ শ্রোতৃবর্গ।

 

ঘরোয়া পরিবেশে শ্রোতার আসর – ‘উচ্চাঙ্গ গায়ন-বাদন ও বিশ্লেষণ’  শিরোনামে শনিবার সকাল ১০.৩০ টায় ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেছে ‘চট্টগ্রাম ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক ইনস্টিটিউট’ (সিসিএমআই)।

 

প্রথম পর্বের শুরুতে বাচিক শিল্পী মো. ওয়াসিম এর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শিল্পী রাজীব দাশ। তিনি বলেন, “সিসিএমআই চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মার্কেটের ৩য় তলায় ০২ নম্বর কক্ষে বিগত একবছর ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই অনুষ্ঠানের প্রধান হলেন শ্রোতারা। শিল্প-শিল্পী-শ্রোতাদের সাথে দৃঢ় মেলবন্ধন গড়ে তোলায় এই অনুষ্ঠানের মূখ্য উদ্দেশ্যে।”

 

এরপর শুরু হয় গায়ন-বাদন পর্ব। তবলায় লহড়া পরিবেশন করেন শিশু-শিল্পী জেনিক ধর। হারমোনিয়ামে নাগমা বাজান শিল্পী আনন্দী সেন, তানপুরায় ছিলেন শিল্পী সৃজিতা সাহা আরাধ্যা।

 

এরপর রাগ ভৈরব পরিবেশন করেন শিল্পী চিন্ময় চৌধুরী। তবলায় ছিলেন শিল্পী সানি দে। বেহালায় রাগ আহির ভৈরব পরিবেশন করেন শিল্পী অপরাজিতা চৌধুরী। তবলায় সহযোগিতা করেন শিল্পী তিষাণ ঘোষ। বাঁশিতে রাগ হিন্দোল পরিবেশন করেন শিল্পী রাসেল দত্ত। তবলায় ছিলেন তিষাণ ঘোষ।

 

অন্তিম তথা বিশ্লেষণ পর্বে –  বিশ্লেষণ করেন নন্দিত মোহন বীণা শিল্পী দোলন কানুগো। তিনি বলেন- সার্থক শিল্পী হতে গেলে প্রথমে- বিনয়ী হতে হবে,  দ্বিতীয়- সমালোচনা সহ্য করতে হবে। নতুবা শিল্পী হওয়া যাবে না। এই পর্বে আরো অংশগ্রহণ করেন প্রফেসর ড. অঞ্জন কুমার চৌধুরী, দৃশ্য-শিল্পী কিংশুক দাশ চৌধুরী, শিল্পী মোখলেছুর রহমান, শিল্পী সুরজিৎ সেন, শিল্পী প্রমিত বড়ুয়া প্রমুখ।# বিজ্ঞপ্তি