সাধ্বর্শত জন্মবার্ষিকীতে মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন


ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সমাধিস্থলে সাধ্বর্শত জন্মবার্ষিকীতে পুস্পিত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে আজ ২২ আগস্ট ২০২৫ শুক্রবার বিকাল ৪ঘটিকায় কদম মোবারক এতিম খানা প্রাঙ্গণ চট্টগ্রামে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সমাধিস্থলে পুস্পিত শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি সানোয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ শেখর দত্ত, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব চন্দন কুমার চৌধুরী, প্রধান বক্তা রাজনীতিবীদ মিটুল দাশগুপ্ত, উক্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সিঞ্চন ভৌমিক, বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সামাজিক ও রাজনীতিবীদ দিপংকর চৌধুরী কাজল, বিপ্লবী পরিবারে সদস্য প্রবীর দাশ গুপ্ত নন্তু, মোঃ মানিক মিঞা, মোঃ জাফর উদ্দিন, মোঃ জাকির হোসেন, বাবু কমল বড়–য়া, মোঃ আবুল হোসেন, মোঃ ইব্রাহীম, মোঃ সজীব ভূইয়া, মোঃ রাসেল, মোঃ করিম, মোঃ হাসেম।

 

বক্তারা বলেন আজকে থেকে ১৫০বছর পূর্বে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ১৮৭৫ সালের ২২ আগস্ট চট্টগ্রাম জেলার বর্তমান চন্দনাইশ উপজেলার বরমা—আড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে যতজন প্রবাদপ্রতিম পুরুষ আলোকিত করেছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী। তিঁনি একাধারে রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সমাজ চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক। ১৯৩০ সালে তিঁনি চট্টগ্রামে কদম মোবারক মুসলিম এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময়ে তিনি কংগ্রেসের অহিংস নীতির প্রতি আস্থা হারান এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সমর্থন দিয়ে ফরোয়ার্ড ব্লকে যোগদান করেন। তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ভারত ছাড় আন্দোলনে যোগদান এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের কার্যক্রমকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করা। এ উদ্দেশ্যে তিনি চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বিপ্লবী কেন্দ্র স্থাপন করেন। তিনি নেতাজীর সঙ্গে সাক্ষাতও করেছিলেন।

 

একপর্যায়ে ব্রিটিশের গুপ্তচররা মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর বিপ্লবী কর্মকাণ্ড টের পায়। এ কারণে তার বাসভবনে তল্লাশি চালানো হয়। মওলানাকে চট্টগ্রাম শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ব্রিটিশ সরকার তাকে দিল্লির লাল কিল্লায় বন্দি করে রাখে। অতঃপর তাকে সেখান থেকে পাঞ্জাবের ময়াওয়ালি জেলে স্থানান্তর করে। সেখানে তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয় গোপন তথ্য জানার জন্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কারণে তার জীবনের তিন ভাগের দুই ভাগই কেটেছে অন্ধকার জেলে। মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাহিত্যকর্মেও সাহসিকতার প্রমাণ পাওয়া যায়। তিনি একাধিক ভাষায় ইসলামি সভ্যতা ও গণমানুষের অধিকার নিয়ে লিখেছেন। তিনি ৪২টির মতো গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ হলো : ভারতে মুসলিম সভ্যতা, সমাজ সংস্কার, ভূগোল শাস্ত্রে মুসলমান, ইসলাম জগতের অভ্যুত্থান, ভারতে ইসলাম প্রচার, কুরআন ও বিজ্ঞান ইত্যাদি। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাতিঘর মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী ১৯৫০ সালের ২৪ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন। ## – বিজ্ঞপ্তি