অভ্যুদয়ের ‘এমনি মায়ার ছলনা…’


এখন চট্টগ্রাম ডেস্ক।

আপডেটের সময়ঃ ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৫

অভ্যুদয় সংগীত ভবন, চট্টগ্রামের ১৭ তম বর্ষে সংগীত আয়োজন ‘এমনি মায়ার ছলনা…’ শীর্ষক সঙ্গীত আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটকে প্রেমের গান নিয়ে সাজানো হয় এবারের আয়োজন ‘এমনি মায়ার ছলনা…’। রবীন্দ্রনাথের নাট্য সাহিত্য বিপুল। সংগীত নাটকে বিশেষ যোজনা সৃষ্টি করেছে। নাটকে বিচিত্র ও বিপুল ভাবে জীবনকেই ধারণ করেছেন বিশ্ব কবি।

 

রক্তকরবীর গান ‘তোমায় গান শোনাব, তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো, ওগো দু:খ জাগানিয়া’ দিয়ে শুরু হয় সমবেত পরিবেশনা। এরপর শিল্পীরা একে একে গেয়ে শোনান- ‘ভালোবাসি ভালোবাসি, এই সুরে কাছে দূরে’, ‘দিবস রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি’ ও ‘হায়রে হায়’।

 

বেহালার করুণ সুরে এক শিল্পী গেয়ে উঠেন ‘ওগো যাও কোথা যাও, পথ হারা তুমি পথিক’। সুরের মায়ায় পথিক হয়ে নিজেকেই যেন খুঁজে ফেরেন স্রোতা। রবীন্দ্রনাথের গানের প্রধান সুর যে বিরহ তা ব্যক্ত হয়ে উঠে শিল্পী ও স্রোতার মেলবন্ধনে।

 

‘ফিরে চাও ফিরে চাও, যাও কেন, ফিরে ফিরে চাও’, ‘সকইলই ফুরালো সকলই প্রায়’, ‘ও কেন ভালোবাসা জানাতে আসে’, ‘যখন এসেছিলে অন্ধকারে’, ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা ওগো তৃষ্ণা আমার বক্ষ জুড়ে’, ‘বনে এমন ফুল ফুটেছে মান করে থাকা আর কি সাজে’, ‘প্রেমেরও ফাঁদ পাতা ভুবনে, কে কোথা ধরা পরে কে জানে’, ‘ঘরেতে ভ্রমর এলো গুন গুনিয়ে’, ‘আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান’, ‘আমার অঙ্গে অঙ্গে কে বাজায় বাঁশি’ ও ‘মায়া বন বিহারিনী’ গেয়ে শোনান অভ্যুদয়ের শিল্পীরা।

 

এরআগে শিশু দল ‘কিচিরমিচির ও উচ্ছ্বাস’ এর ক্ষুদে শিল্পীদদের ‘আমরা চিত্র অতি বিচিত্র, অতি বিশুদ্ধ, অতি পবিত্র’সহ কয়েকটি গান দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান।

 

শিল্পী শ্রেয়সী রায়ের ‘দেখো সখা, ভুল করে ভালোবেস না, আমি ভালো বাসি বলে, কাছে এসো না’ দর্শকদের বিমোহিত করে রবীন্দ্রনাথের প্রেম ও বিরহ ভাবনায়।

 

‘তৃষ্ণারও কান্তি’ এবং ‘এরা সুখের লাগি চাহে প্রেম, সুখ মেলে না’ গানের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় আয়োজন। মানব মনের অনন্ত বেদনাই যেন বেজে ওঠে বিশ্ব কবির বাণী ও সুরের সেই মেলবন্ধনে।

 

অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন শৈবাল বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের সঙ্গীত পরিচালনা ও পরিকল্পনা করেন শিল্পী শ্রেয়সী রায়।

 

রবীন্দ্রনাথে সৃষ্টির বিভিন্ন অংশ পাঠ করেন অমিতা বড়ুয়া। যন্ত্র শিল্পীদের মধ্যে তবলায় ছিলেন সানি দে, বেহালায় রিসি বসাক, এস্রাজে সৌমিত রায়, কি বোর্ডে রিপন শীল, অক্টোপ্যাডে নন্দন নন্দী এবং গিটারে মলয় কুমার ইন্দু মুকেশ। ### প্রেস বিজ্ঞপ্তি